মরক্কোতে একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে গত সপ্তাহে নিখোঁজ হওয়া দুই মার্কিন সেনার মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। নিহত সেনার পরিচয় নিশ্চিত করে সেনাবাহিনী জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড এলাকার বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট কেন্ড্রিক ল্যামন্ট কি জুনিয়র। তিনি প্লাটুন লিডার ও বিমান প্রতিরক্ষা আর্টিলারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

মরক্কোর সামরিক অনুসন্ধানকারী দল ২ মে খাড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই সেনার সন্ধানে অভিযান চালাতে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে সমুদ্রের পানিতে এক সেনার মরদেহ উদ্ধার করে। অন্য নিখোঁজ সেনার সন্ধানে এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও মরক্কোর বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে তাদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি চলছে।

এদিকে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সূর্যাস্ত দেখতে একদল সেনা পাহাড়ি এলাকায় হাঁটতে গিয়েছিলেন। এ সময় একজন সেনা সমুদ্রে পড়ে যান। তাকে উদ্ধারের জন্য অন্য সেনারা নিজেদের বেল্ট ব্যবহার করে মানবশৃঙ্খল তৈরির চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আরেক সেনা পানিতে ঝাঁপ দেন সহকর্মীকে বাঁচাতে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যিনি প্রথমে পানিতে পড়েছিলেন, তিনি সাঁতার জানতেন না। পরে একটি বড় ঢেউ দ্বিতীয় সেনাকেও ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তখন তৃতীয় আরেক সেনা উদ্ধার অভিযানে পানিতে নামলেও শেষ পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন এবং নিজেই ক্যাম্পে ফিরে আসেন।

ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট কি প্রথমে সমুদ্রে পড়েছিলেন, নাকি উদ্ধার করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন—তা এখনো নিশ্চিত নয়। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তার মরদেহ কাছের একটি মর্গে নেওয়া হয়েছে এবং পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।

১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কার্টিস কিং এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “তার পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং যারা তাকে চিনতেন ও তার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই।”

এছাড়া ১০ম আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ড জানিয়েছে, ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট কি-এর মৃত্যুতে পুরো ইউনিট গভীরভাবে শোকাহত। তার জীবন ও সামরিক সেবার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।

নিখোঁজ দুই সেনাই ‘আফ্রিকান লায়ন ২০২৬’ নামের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছিলেন। এই মহড়ার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো মিত্রদেশ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা। ‘আফ্রিকান লায়ন’ আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া, যা মরক্কো, ঘানা, সেনেগাল ও তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version