চোট, বয়স আর সময়—তিনটিকেই যেন একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন মিচেল স্টার্ক। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসেও থেমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা পেসারের চোখেমুখে।

বরং দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই জানিয়ে দিলেন, এখনও তার স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বললেও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষুধা এখনো আগের মতোই তীব্র স্টার্কের।

হালের অন্যতম সেরা পেসারদের একজন স্টার্ক। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা যা জেতা সম্ভব তার প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছেন তিনি। দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।

সম্প্রতি চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরা এই বাঁহাতি পেসার জানিয়েছেন, এখনও জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথ চলার ইচ্ছা রয়েছে তার। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

স্টার্ক বলেন, ‘২০২৭ বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। তবে আশা করি আমি সেখানে থাকব। বিশ্বকাপ সবসময়ই প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য বড় লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে সরে এসেছি, কিন্তু এখনও ক্রিকেটটা দারুণ উপভোগ করছি। আমি কখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করি না। শরীর কেমন থাকে আর ক্রিকেট কেমন চলছে, সেটাই দেখি।’

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনও সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পেসারদের একজন স্টার্ক। বর্তমানে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন তিনি। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের উত্তাপ এখনও দারুণ উপভোগ করেন বলে জানিয়েছেন এই অজি তারকা।

তিনি বলেন, ‘আমি লড়াকু স্বভাবের মানুষ। ক্রিকেটের এই দিকটাই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে গিয়ে আমার সবচেয়ে কাছের কিছু বন্ধুর সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারি। কঠোর পরিশ্রমটা যেমন উপভোগ করি, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাটাও আমাকে টানে। এখনও ক্রিকেটটা আমার কাছে দারুণ মজার।’
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেছেন স্টার্ক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চোটের সঙ্গে লড়াই করতে হলেও এখনও নিজেকে ভালোভাবেই ধরে রাখতে পারছেন বলে বিশ্বাস তার।

স্টার্ক বলেন, ‘সবসময়ই কিছু না কিছু সমস্যা থাকেই। কনুই আর কাঁধে একটু সমস্যা ছিল, যেটা এখনও সামলানো হচ্ছে। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শরীরের ওপর চাপটা হয়তো একটু কম পড়ে। ১৬ বছর পরও আমি এখনও ভালোভাবেই টিকে আছি। আশা করি সামনে আরও দুই-এক বছর খেলতে পারব।’

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version