সিরিয়ায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনই শিশু। এ ছাড়া বন্যার পানিতে পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন শিশু।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রাক্কা ও দেইর আজ জোর প্রদেশের বিভিন্ন জলাশয়ে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া পশ্চিম রাক্কার আল-সালমানি সেতুর কাছে বন্যার পানিতে একটি গাড়ি আটকে গেলে দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলেপ্পো, রাক্কা, দেইর আজ জোর, হাসাকা ও হোমস প্রদেশের বেশ কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, তাবকার পশ্চিমে অবস্থিত আল-সালমানি সেতুটি বন্যার পানির তোড়ে ধসে পড়েছে। এতে রাক্কা থেকে আলেপ্পো যাওয়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে বন্যার পানিতে আটকে পড়া ১৫ জনকে উদ্ধার করেছেন জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। রাক্কার গ্রামীণ এলাকার তিনটি শিবির থেকে প্রায় ৩৭৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে চলতি বছরের জুনে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছিল, সিরিয়ায় বন্যায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৭০০টি পরিবার। তাদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার শিশু রয়েছে। এ ছাড়া রাক্কা ও দেইর আজ জোর প্রদেশের ৪৯টি পানি শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।


