উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুইজন ইহুদি পুরুষকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে ব্রিটিশ পুলিশ। এ ঘটনায় এক ৪৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও তিনি ব্রিটিশ নাগরিক, তার জন্ম সোমালিয়ায়। তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে।

আহত দুই ব্যক্তির নাম শিলোম রান্ড (৩৪) ও মোশে শাইন (৭৬)। ঘটনাস্থলেই তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের ওপরও ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিল, তবে এতে কেউ আহত হননি।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এ ঘটনাকে “ইহুদিবিদ্বেষী হামলা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ মানে পুরো দেশের ওপর আক্রমণ।”

সন্ত্রাস দমন বিভাগের প্রধান লরেন্স টেলর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় পুলিশ কমিশনার মার্ক রাউলি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, কিছু মানুষকে বিদেশি গোষ্ঠী বা শত্রু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি কিংবা অর্থায়ন করা হচ্ছে।

বিচারমন্ত্রী স্যাকম্যান বলেন, মানুষের উদ্বেগ তিনি উপলব্ধি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরো সমাজকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই হামলা প্রমাণ করে দেশে ইহুদিদের জন্য হুমকি বাস্তব। সবাইকে সবসময় নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, সন্তানদের নিয়ে উপাসনালয়ে গেলে এখন তিনি আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকেন এবং তাদের হাত শক্ত করে ধরে রাখেন—যে অনুভূতি এখন অনেকের মধ্যেই রয়েছে।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, শুধু নিন্দা জানালেই হবে না; এ ধরনের হামলা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদিদের লক্ষ্য করে একের পর এক ঘটনা ঘটছে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সে আগুন দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন, “ইহুদিরা ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।”

অন্যদিকে, রাজা তৃতীয় চার্লস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার আরও বলেছেন, ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে, এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তহবিলও বরাদ্দ করা হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version