মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছে।

বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রশংসা করে বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরেছেন। মানুষের সংশোধন ও শেখার প্রক্রিয়া সীমাহীন উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে যখন অনেকেই দিশেহারা, তখন জিয়াউর রহমান সাহসিকতার সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর তিনি কোনো পদ বা ক্ষমতার দাবি না করে একজন সুশৃঙ্খল সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশপ্রেমের এক বিরল উদাহরণ।

তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সে সময় দিশেহারা জাতি শহীদ জিয়ার ওপর আস্থা রেখে তাঁকে নেতৃত্বে নিয়ে আসে এবং তিনি সফলভাবে দেশ পরিচালনা করেন। দুর্ভিক্ষপীড়িত ও হতাশাগ্রস্ত বাংলাদেশ তাঁর নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয় বলেও তিনি উল্লেখ।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের সূচনা, তৈরি পোশাক খাতের ভিত্তি স্থাপন এবং কৃষি ও উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রশাসনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ধারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার দর্শন প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ জিয়াউর রহমান।

তিনি নারী উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে জিয়ার অবদান তুলে ধরে বলেন, মহিলা অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক প্রবর্তনÑ এসব উদ্যোগ তাঁর সময়েই নেওয়া হয়।

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি দেশপ্রেম ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করেছেন এবং নারী শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বর্তমান প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন কর্মসংস্থান, ন্যায্যমূল্য এবং উন্নত জীবনযাত্রা চায়। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version