মা—এই একটি শব্দের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা, মায়া আর নির্ভরতার গল্প। জীবনের প্রথম স্পর্শ, প্রথম আশ্রয়, প্রথম শেখা আর নিঃস্বার্থ স্নেহের আরেক নাম মা। সন্তানের সুখে যিনি হাসেন, দুঃখে যিনি নীরবে কাঁদেন, নিজের সবটুকু উজাড় করে যিনি আগলে রাখেন পরিবারকে—তিনি মা। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে আপন শব্দটির নামও ‘মা’।

আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় দিনটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ ১০ মে। মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ এই দিনটি যেন মনে করিয়ে দেয়—মা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি সন্তানের পুরো পৃথিবী।

বিশ্ব মা দিবসের আধুনিক ধারণার সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে আন্না জার্ভিস নামে এক নারী প্রথমবারের মতো নিজের মায়ের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশেষভাবে দিনটি উদযাপন করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় শুরু হওয়া সেই আয়োজনই পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদারস ডে’ বা মা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেন। সেই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

মা শুধু একজন অভিভাবক নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। জন্মের পর থেকে সন্তানের বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও জীবনের প্রতিটি ধাপে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে একজন মা নিরন্তর ত্যাগ স্বীকার করেন, অথচ বিনিময়ে প্রত্যাশা করেন সামান্য ভালোবাসা আর সম্মান।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, কেউ উপহার দেন, কেউ কেক কেটে উদযাপন করেন। আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, প্রকাশ করেন কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

তবে মনীষীরা মনে করেন, মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য শুধু একটি দিনই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের আচরণে, যত্নে ও শ্রদ্ধায় মাকে ভালো রাখাই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় উদযাপন। কারণ সন্তানের জীবনে মা শুধু একজন অভিভাবক নন—তিনি প্রথম ভালোবাসা, প্রথম আশ্রয় এবং পুরো পৃথিবীর আরেক নাম।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version