পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম দফার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সকালের শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এই দফায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের নন্দীগ্রাম আসনে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতেও আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে সেনা সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আকাশপথে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকরা প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগের রাতে রাজ্যের কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। তবে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর সকাল থেকে বড় ধরনের সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ১৫২টি আসনের ফলাফলই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একদিকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক দুর্গ রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছে, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বাম-কংগ্রেস জোট পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজকের এই দফায় ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য ইভিএমে বন্দি হবে। বিকেলের দিকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে আরও ভিড় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পুরো রাজ্য এখন তাকিয়ে রয়েছে নির্বাচনের প্রথম ধাপ শেষে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক বার্তার দিকে।
সূত্র: এনডিটিভি


