আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সীমিত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
ডিসিসিআই বলছে, করমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা করা হলে বিপুলসংখ্যক করদাতা করের আওতার বাইরে চলে যাবেন, যারা মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের শ্রেণির মানুষ। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে অবস্থান করায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই অবস্থায় করমুক্ত সীমা না বাড়ালে করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
সংগঠনটির মতে, করমুক্ত সীমা বাড়ানো হলে সীমিত আয়ের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হবে এবং তাদের বাস্তব আয় কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে এটি ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সহায়ক হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যক্তিখাতের পাশাপাশি করপোরেট খাতেও বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে ডিসিসিআই। এর মধ্যে রয়েছে—অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামানো এবং বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নির্ধারণ।
এছাড়া রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে ‘সিঙ্গেল স্টেপ’ সেবা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহজ হবে।
ডিসিসিআই আরও জানিয়েছে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতি এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছে। কর জাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন করদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।
প্রস্তাবগুলোর জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, চলতি অর্থবছরে শুল্কহার কমানোর চেয়ে অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং কর ফাঁকি রোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, করপোরেট কর রিটার্ন ও রিফান্ড ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনলাইনে আনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে ডিসিসিআই মোট ২৩টি প্রস্তাবনা দিয়েছে, যার মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, করহার হ্রাস এবং ভ্যাট ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন উল্লেখযোগ্য।


