চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে যৌথ বাহিনীর একটি বড় ধরনের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ছয়টার দিকে ভোরের আলো ফুটতেই সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের শুরুতে ড্রোন উড়িয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পট শনাক্ত করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে সেনাবাহিনীর এপিসি ট্যাংক, পুলিশের জলকামান, সাঁজোয়া যান, ডগ স্কোয়াড এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একাধিক গাড়ি নিয়ে যৌথ বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে প্রবেশ করে। অভিযানে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে অপরাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতেই এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনী, র্যাব-৭, র্যাব-১১, র্যাব-১৫, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সদস্য এবং বিজিবি অংশ নিচ্ছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় মূলত রুকন ও ইয়াসিন বাহিনীর আধিপত্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে এসব সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করতে র্যাব অভিযান চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সে সময় ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা র্যাব সদস্যদের ঘিরে মারধর করে এবং চারজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায়। ওই ঘটনায় এক র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনও পাহাড় কেটে চলছে প্লট বাণিজ্য। এই বাণিজ্য ও দখল ধরে রাখতে এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা সার্বক্ষণিক অস্ত্রসহ পাহারা দেয়।
বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বাড়িতে অন্তত দেড় লাখ মানুষের বসবাস। এদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে সেখানে বসতি গড়ে তুলেছেন।


