ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের রুশ দাবি শনিবার নাকচ করেছে ইউক্রেন। কিয়েভ বলেছে, দোনবাস অঞ্চলের এই কৌশলগত শহর এখনো ইউক্রেনের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আন্দ্রি কোভালেভ এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি কঠিন হলেও কস্তিয়ান্তিনিভকা ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
এর আগে রাশিয়া দাবি করে যে তাদের বাহিনী শহরটি দখল করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার ওই দাবি নাকচ করে একে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘কস্তিয়ান্তিনিভকা যদি সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাহলে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের জন্য পুতিন নিশ্চয়ই সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করার কোনো সমস্যা বোধ করতেন না।’
শুক্রবার, সামরিক পোশাক পরিহিত রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন কস্তিয়ানতিনিভকা শহরটি দখল করার জন্য সৈন্যদের ধন্যবাদ জানান। যুদ্ধের আগে এই শহরটির জনসংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার এবং মস্কো কয়েক মাস ধরে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
তবে, ইউক্রেন জানায়, শহরের ভেতরে ছোট ছোট রুশ ইউনিট অনুপ্রবেশ করলেও তীব্র লড়াই চলছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের সেনারা শহরের দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
কস্তিয়ান্তিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং এটি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত কрамাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথের অন্যতম বাধা হিসেবে বিবেচিত।
ইউক্রেনীয় মুখপাত্র বলেন, তাদের বাহিনী নির্ধারিত প্রতিরক্ষা লাইনে অবস্থান ধরে রেখেছে।
ভারী সাঁজোয়া যানের বিশাল বহর নিয়ে আক্রমণের পরিবর্তে রুশ বাহিনী ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এই অনুপ্রবেশ ও অবস্থান সুরক্ষিত করার কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। এই পদ্ধতিটি এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে ইউক্রেনের পোক্রোভস্ক শহর দখল করতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
অন্যদিকে, যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলেছেন। জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার ‘বাস্তব সম্ভাবনা’ রয়েছে।

