তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে দু’দেশের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
আজ (সোমবার) বরিশালের গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চে আন্তঃধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বক্তব্য দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। এছাড়া বাংলাদেশে আসা মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) সিংহভাগই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় অবদান রাখছে।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীর নিজ এলাকা বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঘুরতে যাওয়ায় তাকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা হয়ে আসছে, যা এই অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়েছে।’
নিজ দেশের মূলনীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন করছে। আমাদের দেশের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় স্বাধীনতা-যেখানে প্রতিটি মানুষ কোনো ভয়ভীতি বা নিপীড়ন ছাড়া স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই চলে আসছে।’
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলেও জানান তিনি।
উৎসবে সার্বজনীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘উৎসব সবার জন্য হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রেও আমরা ঈদ, দেওয়ালি, ক্রিসমাস ও ইস্টারের মতো অনুষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করি, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে।’
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য ধর্মীয় গুরুদের অবদান অপরিসীম। স্থানীয় কোনো ধর্মীয় বিরোধ যেন বড় কোনো সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, বাংলাদেশের এই ধারণা একটি চমৎকার উদ্যোগ।
গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পুরোহিত ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজের সভাপতিত্বে সভায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম, আগৈলঝাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিরুপম মজুমদার, কলেজ অব ক্রিশ্চিয়ান থিওলজি বাংলাদেশের উপাচার্য রেভারেন্ড ড. পলাশ রায়সহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


