জুলাই পরবর্তী দেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজ পরিবর্তনের আশা জাগাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, নতুন করে বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী আচরণগত সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও চেষ্টা করছেন।
আজ ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্লিন সিটি গড়তে নিজে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে বলেন। তিনি সিটি করপোরেশনকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি তরুণদের মধ্যে পরিবর্তনের আশা জাগিয়ে তুলছেন।
মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া কষ্টকর বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এ সময় কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গত ৫ মাসে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী দেশ ও সমাজ গড়তে পরিবর্তনকে ধারণ করে চলছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই যারা ঘুষ খেতেন, দুর্নীতি করতেন ও সুযোগের ব্যবহার করতেন তারা ফ্যাসিস্ট থেকে ভোল পাল্টে জুলাইয়ের পরিবর্তনে এসে সুবিধা নিচ্ছেন। এ সবই দুঃখজনক। এ সব সংস্কৃতি বদলের চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল বলেন, সেই ১৯৪৭ সাল থেকে এদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে প্রাণ দিতে হয়েছে। ক্ষুদিরাম বসু ও প্রীতিলতাসহ অসংখ্যা প্রাণের বিনিময়ে বারবার দেশ ভাগ হলেও কাক্সিক্ষত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের পর আবার ২০২৪ এসে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্ট শাসককে বিতাড়িত করা হয়েছে।
জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করতে ভোগবাদী আচরণের পরিবর্তনের কথাও বলেন মন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বহু সভা-সমাবেশ করেছি। সব সময় বলতাম, দেশ বদলাবে যারা, সেই তরুণরা কোথায়? সেই তারুণ্য কোথায়?
তিনি বলেন, ২৪-এ এসে তরুণরা আন্দোলনে নেমে এসেছে। নিজেদের প্রাণ দিয়ে এই দেশ থেকে ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করেছে। আবার সেই আগের সমাজে ফিরে গেলে হাজারো প্রাণের বলিদান বৃথা হয়ে যাবে। জীবন দিয়েছে যারা তাদের ত্যাগের মূল্য দিতে হবে।
সেই ত্যাগের চেতনাকে ধারণ করতে হবে বলেও মনে করেন মন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই দেশে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াই প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তখন সেনারা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, আপনাদের কমান্ডারের নির্দেশই সব। তিনি স্বাধীনতা যে ডাক দিয়েছেন সেটি মানতে হবে। এরপর বেগম জিয়াকে বন্দীত্ববরণ করতে হয়।
মন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এদেশের মানুষের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ভিডিও বার্তায় প্রতিশোধহীন ও প্রতিহিংসাহীন দেশ গড়ার আহ্বান জানান গুরুতর অসুস্থ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও পিএসসি’র সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


