ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামিকে নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে যত আলোচনা থাকুক, মাঠে নামলেই তিনি এখনও কতটা ভয়ংকর—তার প্রমাণ মিলল আবারও। বয়স ৩৫ পেরিয়েছে, চোটও পিছু ছাড়ছে না। তবু নতুন জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই নিজের স্বাক্ষর রেখে দিলেন এই অভিজ্ঞ পেসার। আইপিএলে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার অনন্য রেকর্ডে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন শামি।
লখনৌর একানা স্টেডিয়ামে বুধবার মুখোমুখি হয়েছিল লখনৌ সুপার জায়ান্টস ও দিল্লি ক্যাপিটালস। লখনৌর হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই প্রথম ওভারের প্রথম বলেই আঘাত হানেন শামি। তার অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে করা ডেলিভারিতে কভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল। গোল্ডেন ডাক নিয়েই সাজঘরে ফিরতে হয় দিল্লির এই তারকা ব্যাটারকে।
এই নিয়ে আইপিএলে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট নিলেন মোহাম্মদ শামি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আর কোনো বোলার এতবার এমন কীর্তি গড়তে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিনবার করে প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে সাত বোলারের। সেই তালিকায় আছেন প্রভিন কুমার, উমেশ যাদব, ট্রেন্ট বোল্ট, লাসিথ মালিঙ্গা, ভুবনেশ্বর কুমার, অশোক দিন্দা ও প্যাট কামিন্স।
মজার বিষয়, এর আগে গুজরাট টাইটান্সের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেও প্রথম বলেই উইকেট নিয়েছিলেন শামি। তখনও তার শিকার ছিলেন লোকেশ রাহুল। এবার লখনৌর হয়েও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হলো। ফলে রাহুল যেন শামির অভিষেক ম্যাচের অবিচ্ছেদ্য শিকার হয়ে উঠলেন।
যদিও রাহুলকে ফেরানোর পর আর কোনো উইকেট পাননি শামি। তবে পুরো স্পেলে ছিলেন যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
আগে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি লখনৌ সুপার জায়ান্টস। মাত্র ১৮.৪ ওভারে ১৪১ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন আবদুল সামাদ। মিচেল মার্শ করেন ৩৫ রান। এ ছাড়া আর কোনো ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
অধিনায়ক ঋষভ পান্তকে ওপেনিংয়ে নামানোর পরিকল্পনাও কাজে আসেনি। মাত্র ৭ রান করে রানআউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে। দিল্লির হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন লুঙ্গি এনগিডি ও টি নাটারাজন। দু’জনই নেন ৩টি করে উইকেট।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি দিল্লির। প্রথম বলেই রাহুলকে হারানোর পর আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কাও মাত্র ১ রান করে ফেরেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ২৬ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি।
সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সামির রিজভি ও ত্রিস্তান স্টাবস। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১১৯ রানের জুটি। রিজভি ৪৭ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় খেলেন ৭০ রানের ঝড়ো ইনিংস। অন্যদিকে স্টাবস ৩২ বলে করেন ৩৯ রান।
তাদের দুর্দান্ত জুটিতে ১৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে ম্যাচ হারলেও, প্রথম বলেই আবারও উইকেট নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মোহাম্মদ শামি।


