নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের অবৈধ অর্থের লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তার চাচাতো ভাই সামিউল আলমের স্ত্রী নাফিসা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে কর অঞ্চল-৬। অভিযোগ রয়েছে, নাফিসা চৌধুরীর মাধ্যমে শিবলী রুবাইয়াতের অবৈধ অর্থ বিভিন্ন জায়গায় সরানো হয়েছে।

কর অঞ্চল-৬-এর রেঞ্জ-৩ ও ৪-এর অধীনে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে নাফিসা চৌধুরীর নামে এবং যৌথ নামে পরিচালিত একাধিক ব্যাংক হিসাবের বিবরণী চাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের তেজগাঁও শাখায় নাফিসা চৌধুরীর নামে দুটি হিসাব এবং সিটি ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান শাখায় তার নামে একটি হিসাব রয়েছে। এছাড়া সামিউল আলম সামি ও নাফিসা চৌধুরীর যৌথ নামে সিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় আরও একটি হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংক হিসাবগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, অর্থের উৎস কী, কার কাছ থেকে অর্থ এসেছে এবং কোথায় স্থানান্তর করা হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাফিসা চৌধুরীর আয়কর নথি ও ব্যাংক লেনদেনের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। পরে তাকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায় শিবলী রুবাইয়াতসহ ছয়জন আসামি রয়েছেন।

অন্য মামলাটি ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’-এর মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা হয়েছে। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, নাফিসা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণ করে শিবলী রুবাইয়াতের সঙ্গে কোনো আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের কোনো নির্দিষ্ট লেনদেনকে অবৈধ হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ব্যাংকগুলো তলব করা হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছে কি না, জমা দিলে সেখানে বড় অঙ্কের বা সন্দেহজনক কোনো লেনদেন শনাক্ত হয়েছে কি না এবং তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে কর অঞ্চল-৬-এর রেঞ্জ-৩ ও ৪-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামিউল আলম ও তার স্ত্রী নাফিসা চৌধুরী তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সামিউল আলম বলেন, “শিবলী রুবাইয়াতের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

তদন্তে কোনো অর্থের বৈধ উৎসের বিষয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আর দুর্নীতি, ঘুষ, আত্মসাৎ বা অবৈধ অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ায় আরও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version