শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি আয়োজিত ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
অনুষ্ঠানে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি খেলাধুলার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমরা আগামী দিনে আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে ওঠে, যারা আগামীর বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে নেতৃত্ব দিতে পারবে।’
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘লেখাপড়ার সাথে খেলাধুলা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও পরাজিত—উভয় পক্ষকেই খেলা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পরাজয়কে সহজে বরণ করে নেয়া এবং আগামী দিনে কীভাবে সেখান থেকে সাফল্য অর্জন করা যায়, সেই ক্রীড়াসুলভ শিক্ষা নেওয়া জরুরি।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘নিজেদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে হবে। এদেশকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে আমাদের বিশাল জনসংখ্যাকে সুশিক্ষিত জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নারীশিক্ষার অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জীবনী ভবিষ্যতে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূইয়া।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহাদাত হোসাইন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ আক্কাস আলী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা ও সাঁতার—এ ৪টি খেলায় দেশের ২৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ১৪ লক্ষ শিক্ষার্থী, জেলা পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৮৪০ জন, উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ৫ হাজার ৮৮৮ জন, অঞ্চল পর্যায়ে ৮২৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ধারাবাহিক বাছাই শেষে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে ৩৬৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছে।


