২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ দেড় দশকের ক্ষমতার অবসান ঘটেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতার সূর্য অস্তমিত হতেই পাঁচ দশক পর প্রথমবারের মতো এই রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় দেবকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিচ্ছে কিছু মানুষ।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালো টি-শার্ট পরা অবস্থায় হাত জোড় করে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় মাথা নিচু করে ভিড় পার হচ্ছেন তিনি। দেবকে কটাক্ষ করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি সমর্থকদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
এদিকে তৃণমূলের ভরাডুবির দুইদিন পর মুখ খুলেছেন এই অভিনেতা। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বিজেপির বিধায়কদের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, ‘বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জনরায়ের জন্য বিজেপিকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আমি একান্তভাবে আশা করি এই সরকার আমাদের রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে এবং নিশ্চিত করবে যেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে শোনা হয়।’
দেব আরও লিখেছেন, ‘জনজীবন এবং চলচ্চিত্রের একজন মানুষ হিসেবে, আমি নতুন সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই যেন তারা ঐক্য ও শৈল্পিক স্বাধীনতার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখেন। এর জন্য প্রয়োজন, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের অভ্যন্তরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বিভাজনের যে সংস্কৃতি বিদ্যমান, তাকে চিরতরে অতীতের বিষয়বস্তুতে পরিণত করা। সিনেমা হল বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচয়। আর এর প্রকৃত বিকাশ কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান এবং সম্মিলিত অগ্রগতির মাধ্যমেই সম্ভব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এছাড়াও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা আমি অধীর আগ্রহে প্রত্যাশা করছি। যা ঘাটালবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং এক অপরিহার্য প্রয়োজন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেখলে এটি মূলত মানুষের জীবন রক্ষা, জীবিকা সুনিশ্চিত করা এবং ঘাটালবাসীকে তাদের প্রাপ্য এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে।’
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ভোটে দাঁড়াতে চাননি অভিনেতা দেব। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে রাজি করান।

