ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নামলেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলার বিরল কীর্তি গড়বেন বিশ্ব ফুটবলের এ মহাতারকা। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিনিধিত্ব করা মেসির এই অর্জন আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে।
মেসির জাতীয় দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। তবে অভিষেকটা মোটেও সুখকর ছিল না। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেই হতাশার দিনটিই পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের এক কিংবদন্তির জন্মগাঁথার সূচনা হয়ে ওঠে।
এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৯টি ম্যাচে মাঠে নেমে করেছেন ১১৭টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৪টি গোল। প্রায় ১৬ হাজার ৩৮০ মিনিটের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা শিরোপা।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়ের বেদনাও সঙ্গী হয়েছিল তার। একসময় জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সব হতাশা পেছনে ফেলে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা পান তিনি। সেই সাফল্যই তাকে নিয়ে যায় অমরত্বের এক অনন্য আসনে।
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের কঠিন বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। সেখানে ৭২টি ম্যাচ খেলে করেছেন ৩৬ গোল, সঙ্গে রয়েছে ১৪টি অ্যাসিস্ট। এছাড়া বিশ্বকাপে ২৬টি এবং কোপা আমেরিকায় ৩৯টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন তিনি, যা দুটি আসরের ইতিহাসেই অন্যতম সেরা উপস্থিতির নজির।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে। ২২৮ ম্যাচ নিয়ে তিনি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে মেসির ২০০তম ম্যাচের এই ঐতিহাসিক উপলক্ষকে ঘিরেই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি উন্মাদনা, পাশাপাশি আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রতিও রয়েছে সবার বিশেষ নজর।
এদিকে বিশ্বকাপের পর মেসি, রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন কি না, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও জল্পনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি মেসি। বরং সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার যেন প্রস্তুত নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায় রচনা করতে—যে অধ্যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।

