সোমালিয়াকে দেওয়া সব ধরনের চলমান সরকারি সহায়তা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খাদ্য সহায়তা চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ফর ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স, হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিলিজিয়াস ফ্রিডম জানান, অপচয় বা চুরির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শূন্য-সহনশীলতা নীতি’ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সোমালিয়ার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি গুদাম ধ্বংস করেছেন এবং অবৈধভাবে ৭৬ মেট্রিক টন দাতা-অর্থায়িত খাদ্য সহায়তা জব্দ করেছেন বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

মার্কিন এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সহায়তা দেওয়া হলে তা, ‘সোমালি ফেডারেল সরকার জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং ঘটনার প্রতিকার নেবে’— এই শর্তের ওপর নির্ভর করবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে অবস্থিত যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়াকে জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত দেশগুলোর একটি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে আসছে। তবে সহায়তা স্থগিতের বিষয়ে সোমালিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এরই মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সোমালি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। মিনেসোটায় সোমালিদের পাকড়াও করতে অভিবাসন অভিযানে করা হয়েছে এবং ওই অঙ্গরাজ্যের সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক সরকারি ভাতা জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০ হাজার সদস্য নিয়ে মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়।

গত নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমালি অভিবাসীদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বাতিল করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে গ্যাং সহিংসতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তারা (সোমালীয়রা) যেখান থেকে এসেছে, সেখানেই তাদের ফেরত পাঠানো হোক।’ এই পদক্ষেপ সোমালিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের সর্বশেষ উদাহরণ বলেও মনে করা হচ্ছে।

গত মাসে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালি ল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পর প্রথম কোনো দেশের স্বীকৃতি। এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সোমালি সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় দুই দশক ধরে লড়াই চালানো ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব সোমালি ল্যান্ডকে ইসরায়েলের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হুমকি দিয়েছে। যদিও সোমালিল্যান্ডের নিজস্ব মুদ্রা, পাসপোর্ট ও সেনাবাহিনী রয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্থ হয়ে আসছে।

ইসরায়েলের এই স্বীকৃতিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিলেও মিসর, তুরস্ক, ছয় দেশের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এবং সৌদি আরবভিত্তিক ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এর সমালোচনা করেছে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা উচিত।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version