রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার একদিন আগে শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (Criminal Investigation Department, Bangladesh) সিআইডি রামিসার ডিএনএ প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে যুক্ত হয়।

এর আগে গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবী ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। নৃশংসতার পর ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিল।

ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আজ আদালতে এই স্পর্শকাতর মামলার চার্জশিট জমা দিলো পুলিশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version