চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকের শুরুতেই দুই নেতা একে অপরের প্রশংসা করে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প এই সফরকে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শীর্ষ সম্মেলন হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হবে।

বৈঠকের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে কাজ করা। স্থিতিশীল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল ও অস্থির। এ সময় দুই পরাশক্তির মধ্যে সহযোগিতা বিশ্বে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।

চীনা প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তোলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত থুসিডাইডস ট্র্যাপ এড়িয়ে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব? আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত। একজনের সাফল্য অন্যজনের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পও শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে তাকে মহান নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের। আমরা বন্ধু, আর আপনার মতো একজন নেতার বন্ধু হতে পারাটা গৌরবের বিষয়। দুই দেশের মধ্যে যখনই কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে, তখন দুই নেতা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এই সফরে বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। ট্রাম্প বলেন, আপনাকে সম্মান জানাতেই আমি বিশ্বের সেরা মানুষদের এখানে নিয়ে এসেছি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version