ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-কে লক্ষ্য করে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলার মধ্য দিয়ে তারা ‘শত্রুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের এক নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে। তবে হামলার বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক কোনো সূত্র এখনো এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর একটি হলো ‘আব্রাহাম লিংকন’।
এদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে দেওয়া বক্তব্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রণতরীটিকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজ পর্যন্ত পৌঁছায়নি এবং কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। বর্তমানে জাহাজটি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি-মার্কিন বাহিনী হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ অন্তত ৩০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ২০১ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেল আবিবসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ৯ জন নিহত এবং ১২১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন এবং ইরানে ২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আমিরাতে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
তবে চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষের দাবি–পাল্টা দাবির কারণে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।



