স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছোট ছোট মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং অসহায় মানুষদের কর্মমুখী করে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
রোববার নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে মার্কিন-ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘লাভ শেয়ার বিডি’ দ্বারা পরিচারিত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা প্রকল্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করার এই প্রকল্পের অধীনে ২৫টি ‘চা ঘর’ হস্তান্তর করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য ‘লাভ শেয়ার বিডি’র এই উদ্যোগ সংখ্যায় কম হলেও, এটি তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
রংপুর বিভাগের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজ নিজ এলাকার মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এগুলো এত দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের প্রদীপ নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের একটি বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যবশত, তারা আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছেন। শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, তারাও সেই একই ভাষায় কথা বলছেন। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য ভালো নয়।’
মাত্র পাঁচ মাস আগে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলকে আলোচনার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের কথামতো, কাজটি এখনই করতে হবে, যদিও একদিনে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী আমলে ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং ১৭০০ জন গুমের শিকার হয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতি এখন দেশে নেই।
দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে, কৃষির উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘দেশে জ্বালানি সমস্যা রয়েছে। গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একটিও গ্যাস ও তেল খনি অনুসন্ধান করেনি। তারা বাপেক্সকে অচল করে দিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা দেশে তেল ও গ্যাসের কূপ খননের চেষ্টা করছি।’
মন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম শত শত কোটি ডলার বেড়ে গেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের কারণে আমাদের তেল ও গ্যাস আমদানিতে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তবে, দেশের মানুষ একদিনের জন্যও তেল ও গ্যাস ছাড়া থাকেননি। সরবরাহ কিছুটা কমেছে, কিন্তু কোনো চরম সংকট তৈরি হয়নি। দেশে যে সংকট রয়েছে, তা অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।’
এ সময় তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, দায়িত্ব নেয়ার মাত্র চার-পাঁচ মাসে অনেক কিছু বদলে গেছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের জন্য সময় এবং সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমকে সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে আমরা লিখতে না পারলেও, এখন আমরা সত্য-মিথ্যা দুটোই লিখতে পারি। এখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী ক্ষমতাকে অর্থ উপার্জনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত যে ‘লাভ শেয়ার বিডি’র উদ্যোক্তারা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। যদিও এই ধরনের উদ্যোগের পরিধি ছোট, তবে এর উদ্দেশ্য অত্যন্ত মহৎ।’
‘লাভ শেয়ার বিডি’-এর পরিচালক জাহিদ খান বলেন, মানুষের অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্েযর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সাহায্য করাই নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রিজিকা সুলতানা ফেন্সি , রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।


