জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবকল্যাণ ও মানবসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও কিশোরদের উদ্বুদ্ধ করতেও সংগঠনটি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রোববার জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বিদ্বান ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ ও আইনজীবীরা এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ ও মানবসেবা।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, হামসহ বিভিন্ন সংকটের সময় ফাউন্ডেশন আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তরাঞ্চল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বন্যার সময়ও সংগঠনটি ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। যারা পা হারিয়েছেন, তাদের কৃত্রিম পা সংযোজনের মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ করে দেওয়ার মতো কাজও করেছে সংগঠনটি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের মানুষ এ সংগঠন থেকে আরও কার্যকর সেবা পাবে।
দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। একইভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে মানুষের সেবা করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যায় না। এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
তিনি বলেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
ভবিষ্যতেও ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা।


