বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি এবং প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সংস্থা কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই)।
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অঙ্গনে অগণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংস্থাটির সভাপতি রোমান জাভর্শেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। সংস্থাটি ৪৬টি দেশের ১০ লাখের বেশি আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।
‘ইরেগুলারিটিজ ইন সেভারাল ডিস্ট্রিক্ট বার ইলেকশনস’ শিরোনামের এই চিঠিটি তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করেছে। চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের মনোনয়ন জমাদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং কিছু প্রার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্তাও করা হয়েছে। এ ছাড়া অনেককে পূর্ববর্তী সরকারের বা ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এমনকি পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করেছে বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়।
আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সিরাজগঞ্জেআজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না সিরাজগঞ্জে
চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে সিসিবিই। দাবিগুলো হলো— বার নির্বাচনে সকল আইনজীবীর সমান ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; নির্বাচনী অনিয়ম, বাধাদান ও সহিংসতার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা এবং সকল আইনজীবী যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়াই স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
দাবিগুলোর পক্ষে সংস্থাটি জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের বিষয় উল্লেখ করেছে। এসব অনুচ্ছেদে আইনজীবীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি কাউন্সিল অব ইউরোপের আইন পেশার সুরক্ষাসংক্রান্ত নতুন কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে।

