বিএনপির মহাসচিব প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন আজ।

জন্মদিন উপলক্ষে রোববার দিবাগত রাতে বড় মেয়ে শামারুহ মির্জা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাবাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বাবার রাজনৈতিক জীবন পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন।

পোস্টে শামারুহ মির্জা লেখেন, আমরা দুই বোন যখন ছোট্ট ছিলাম, আমার বাবা চাকরি ছেড়ে, পুরো পরিবারকে ঢাকায় ফেলে ঠাকুরগাঁয়ে চলে যান। এক-দুই দিন না, বছরের পর বছর আমরা বড় হয়েছিলাম বাবাকে কাছে না পেয়ে, কারণ তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করবেন।

তিনি লেখেন, খুব কঠিন ছিলো আমাদের বড় হওয়া। আমরা কষ্ট পেয়েছি, বিরক্ত হয়েছি। কিন্তু আমার বাবাকে কোনোদিন নিরাশ হতে দেখিনি।

আমরা টুক টুক করে বড় হলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি, পিএইচডি করেছি, চষে বেরিয়েছি পৃথিবী। প্রায়ই ভাবি, আমার বাবাও শিক্ষক ছিলেন, তার জন্যেও আমার এই জীবনটা সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি কঠিনকে ভালোবেসেছিলেন- আপনাদের জন্য। সত্যিই বলছি। আপনাদের জন্য।

শামারুহ মির্জা আরও লেখেন, মির্জা আলমগীর এই ৭৮ বছরেও হতোদ্যম হননি। তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে ১১ বার, আওয়ামী হামলায় আহত হয়েছে, হাসিনা ক্যাডাররা তার চরিত্র হত্যার চেষ্টা করেছে, এখন তাকে বাংলাদেশে উগ্রপন্থিদের লক্ষ্যবস্তু তৈরি করা হয়েছে। শরীরটাও ভালো না। আমি তার মেয়ে- আমার দুশ্চিন্তার কোনো শেষ নেই। মির্জা আলমগীর বাসায় আমাদের যা বলেন, যে ভাষায় বলেন, আপনাদেরকেও ঠিক তাই বলেন- মন থেকে বলেন। তার চেহারা একটাই।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মির্জা আলমগীর প্রতিশোধের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি শুধু একটাই জিনিস চেয়েছেন সারা জীবন- গণতন্ত্র, সাধারণ মানুষের উন্নতির রাজনীতি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ক্লিশে মনে হতে পারে কিন্তু আব্বুর সারা জীবন না হলেও অন্তত আমার সারা জীবনটুকু তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্যেই দিয়েছেন। মানুষটা তার যৌবন দিয়েছেন এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, এই শেষ বয়সে এসে গণতন্ত্রের জন্য লড়ছেন। দৃঢ় সংকল্পে দাঁড়িয়ে আছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version