দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর আজ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গঠিত প্রথম নির্বাচিত সরকার আজ দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে।

বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন তাঁর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান।

এর আগে সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তিন ধাপে ১০০ জন করে মোট ৩০০ জন সদস্য শপথ গ্রহণ করবেন।

দুপুরে বিএনপির সংসদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। এরপর বিকেল ৪টায় দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

সাধারণত মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হলেও এবার বিএনপির পছন্দ অনুযায়ী উন্মুক্ত পরিবেশে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়েছে অনুষ্ঠানটি। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল অস্থায়ী মঞ্চ, ভিভিআইপি জোন এবং অতিথিদের জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবন মেরামত করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রায় হাজার খানেক অতিথির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপিত হবে বলে জানা গেছে।

শপথ গ্রহণের ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন করা হবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version