নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কেব্বি রাজ্যে সন্দেহভাজন সশস্ত্র ডাকাতদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
সোমবার সাকাবা স্থানীয় সরকার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিহত পুলিশ সদস্যদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে নাইজেরিয়া পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ জানায়, কেব্বি ও পাশের জামফারা রাজ্যের মধ্যে চলাচল করছিল সন্দেহভাজন একদল সশস্ত্র ডাকাত। তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ওই দলের বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
নাইজেরিয়া পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সিএসপি আনি ইনিয়েদু এক বিবৃতিতে বলেন, সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আরো দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় দুই বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ৯টা ২৫ মিনিটে সাকাবার রাফিন মাকুকু এলাকায় সংঘর্ষটি শুরু হয়।
সংঘর্ষে ১৭ জন সন্দেহভাজন ডাকাত নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া তাদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেল ধ্বংস করা হয়েছে।
নাইজেরিয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক ওলাতুনজি দিসু নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের মৃত্যু পুলিশ বাহিনী ও দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। দিসু বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যরা যেসব মানুষকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন।
তিনি তাদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন। নিহত পুলিশ সদস্যদের মরদেহ কেব্বি রাজ্যের রাজধানী বিরনিন কেব্বিতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পুলিশ আরো জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজন অপরাধীদের ধরতে এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কেব্বি ও জামফারা ছাড়াও নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোকোতো ও কাটসিনা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা চলছে। এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকায় হামলা, অপহরণ এবং সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে এসব গোষ্ঠীর তৎপরতায় স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও নিয়মিত হামলার ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত এবং পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

