গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক নাটকীয়তা ও সরকার পরিবর্তনের পর আজ সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ডের নাগরিকেরা। সংসদের নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে আজ একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

২০২৩ সালের নির্বাচনের পর নির্ধারিত মেয়াদের চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশটিতে এই আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রার একটি বিতর্কিত ফোনকল ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

যে কারণে এই আগাম নির্বাচন গত বছরের মে মাসে কম্বোডিয়া সীমান্তে এক থাই সেনার নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। জুনে কম্বোডিয়ার নেতা হুন সেনের সঙ্গে এক ফোনালাপে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা এবং হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ সম্বোধন করায় তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ওই কলটি ফাঁস হওয়ার পর জোট সরকারে ফাটল ধরে এবং সিনাওয়াত্রার প্রধান মিত্র ‘ভুমজাইথাই পার্টি’ জোট থেকে বেরিয়ে যায়।

পরবর্তীতে আগস্টে দেশটির সাংবিধানিক আদালত নৈতিকতা স্খলনের দায়ে পায়েতোংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের রায় দেয়। সেপ্টেম্বরে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল নতুন জোট গঠন করে ক্ষমতা গ্রহণ করলেও, শর্ত অনুযায়ী গত ডিসেম্বরে তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

আজকের এই নির্বাচনের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষ তাদের নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আগামীর শাসনতন্ত্রের রূপরেখাও নির্ধারণ করবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version