পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ চাকা ফেটে একটি ফার্নিচার বোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়েছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপের হেল্পার মো. আজাদ মোল্লা (২৭) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং চালক মেহেদী (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মহাসড়কের চুনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আমতলী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে টাঙ্গাইল থেকে ফার্নিচার (আসবাবপত্র) বোঝাই করে একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৫৯৭৭) আমতলীর দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে মহাসড়কের চুনাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আচমকা গাড়িটির বাম পাশের একটি চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। চাকা ফাটার সাথে সাথেই চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পিকআপটি সরাসরি ব্রিজের কংক্রিটের দেয়ালের সাথে সজোরে আছড়ে পড়ে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, পিকআপের সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ভেতরেই চালক ও হেল্পার রক্তাক্ত অবস্থায় আটকা পড়েন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় আশপাশের বাসিন্দা ও খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার সরঞ্জামসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পিকআপের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লোহার দরজা কেটে ভেতর থেকে দুজনকে উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধার করার পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হেল্পার আজাদ মোল্লা।
নিহত আজাদ মোল্লা টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার ফুলকি গ্রামের আইয়ুব মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে গুরুতর আহত চালক মেহেদী একই জেলার সফিপুর উপজেলার বেথুয়া গ্রামের আব্বাস মিয়ার ছেলে।
উদ্ধারকৃতদের দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হোসেন জানান, আজাদ মোল্লাকে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছিল। আর গুরুতর আহত চালক মেহেদীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি জব্দ করেছে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই টাঙ্গাইলে নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা এসে পৌঁছালে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া হস্তান্তরের আবেদন সাপেক্ষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


