জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক কর কমানোর প্রতিশ্রুতিতে তার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে। তিনি তার সাম্প্রতিক কর-কাটছাঁটের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য কিভাবে অর্থায়ন করবেন এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরী হয়েছে। আজ সোমবার প্রকাশিত গণমাধ্যম জরিপ অনুসারে এ তথ্য জানা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

নিক্কেই সংবাদপত্রের সপ্তাহে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জাতীয়তাবাদী এই নেতার সরকারের প্রতি জনসমর্থনের হার ডিসেম্বরে ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ‘গত অক্টোবরে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ৭০ শতাংশের নিচে নেমে এলো।’

তাকাইচি হঠাৎ করে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখে আগাম মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন। নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার ফলে সমালোচনার মুখে পড়েন এবং জনপ্রিয়তার এই পতন ঘটে। যা গত অক্টোবর ২০২৪ সালে চার বছরের মেয়াদের জন্য অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিম্নকক্ষ নির্বাচনের এক বছরও অতিবাহিত হয়নি।

তিনি আজ সোমবার একটি টেলিভিশন প্যানেল আলোচনার জন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। যেখানে তারা তাদের নীতিগুলো নিয়ে বিতর্ক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছেন যে, জনগণ তাকে এবং তার নতুন জোট সরকারকে সমর্থন করে কিনা তা দেখার জন্য নির্বাচন জরুরি।

তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকাইচিকে তার ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) মধ্যে একটি জোট গঠনের জন্য লড়াই করতে হয়েছিল যাতে শক্তিশালী নিম্নকক্ষে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা যায়।

কম জনপ্রিয়তা এবং কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হওয়া সত্ত্বেও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাকে একটি শক্তিশালী জনসমর্থন বা ম্যান্ডেট দাবি করার সুযোগ দিতে পারে এই নির্বাচন।

তার প্রচারাভিযানের এই প্রতিশ্রুতিটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যের ওপর দুই বছরের জন্য ভোক্তা কর মওকুফ করা, যা বিরোধী দলের কর কমানোর পরিকল্পনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে, এই কর মওকুফের ফলে রাজস্বের যে ঘাটতি তৈরি হবে, তা কীভাবে পূরণ করা হবে বা এ সংক্রান্ত আর্থিক পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ দেননি।

নিক্কেই জানিয়েছে, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ শতাংশ বলেছেন যে, তারা মনে করেন না যে, খাদ্যের ওপর শূন্য কর হার ক্রমবর্ধমান দামের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে।’

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version