ইরানের মাইন স্থাপনকারী নৌযানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালীকে লক্ষ্যবস্তু করে, তবে ইরানকে নজিরবিহীন সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে ইরান হুমকি দিয়ে বলেছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো দেশের তেল যেন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যেতে না পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়ে ওঠে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা ১০টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান বা জাহাজে হামলা চালিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছি। প্রয়োজন হলে আরও ধ্বংস করা হবে।”
পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ধ্বংস হওয়া মাইন স্থাপনকারী নৌযানের সংখ্যা বেড়ে ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে। এগুলো হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় ধ্বংস করা হয়েছে।
সেন্টকমের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সমুদ্রে থাকা বিভিন্ন নৌযান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিস্ফোরিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালী এলাকায় মাইন স্থাপন শুরু করেছে বা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ শুরু হয়েছে—এমন তথ্য তার কাছে নেই।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি কোনোভাবে মাইন স্থাপন করা হয়ে থাকে এবং তা দ্রুত সরানো না হয়, তাহলে ইরান এমন সামরিক পরিণতির মুখে পড়বে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “যদি তারা মাইন সরিয়ে নেয়, সেটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।”
ট্রাম্প জানান, লাতিন আমেরিকার জলসীমায় কথিত মাদক পাচারকারী নৌযান ধ্বংসে যে ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী এলাকায় মাইন পেতে রাখা যেকোনো নৌযান ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে দেওয়াই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ এই অভিযান শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি।
সোমবার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অন্তত ৪৬টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি ছিল অত্যাধুনিক।
তিনি আরও দাবি করেন, “ইরানের নৌবাহিনী কার্যত শেষ। তাদের সব জাহাজ এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে।”



