কখনও আলোঝলমলে প্রেমের গল্পে নায়িকা, আবার কখনও সমাজের অন্ধকারের বিরুদ্ধে এক দৃঢ় প্রতিবাদী কণ্ঠ—ভারতীয় সিনেমার পর্দায় রানি মুখার্জি মানেই শক্তিশালী উপস্থিতি ও গভীর অভিনয়ের ছাপ। সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভেঙে–গড়ে তিনি হয়ে উঠেছেন দর্শকের বিশ্বাসের নাম। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দেওয়ার পর এবার ক্যারিয়ারের এক বিশেষ মাইলফলক ছুঁয়ে দেখছেন তিনি।

এই উপলক্ষ্যে ব্লকবাস্টার ‘মর্দানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজের তৃতীয় কিস্তির ঘোষণা দিয়ে নিজের অভিনয়জীবনের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করছেন রানি মুখার্জি। একই সঙ্গে ভক্তদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন একটি আবেগঘন খোলা চিঠি, যেখানে উঠে এসেছে তাঁর অভিনয়জীবনের নেপথ্যের গল্প, শুরুর অনিশ্চয়তা এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।

চিঠিতে রানি লেখেন, “আজ থেকে ৩০ বছর আগে যখন প্রথম কোনো ছবির সেটে পা রেখেছিলাম, তখন বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল না। অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নও দেখিনি। এখন মনে হয়, সিনেমাই আমাকে নিজে থেকে খুঁজে নিয়েছে।”

অভিনয়জগতে প্রবেশের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে নিজের দ্বিধা ও ভয়কে অকপটে স্বীকার করেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসার কথা উল্লেখ করে বলেন,
“আজও আমার ভেতরে সেই নার্ভাস মেয়েটা বেঁচে আছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যে মেয়েটি ভাবত—সংলাপ ভুলে যাব না তো? আমি কি আদৌ এই কাজের যোগ্য?”

দীর্ঘ এই পথচলায় ব্যক্তিজীবন ও পেশাজীবনের সংযোগ নিয়েও কথা বলেছেন রানি মুখার্জি। বিশেষ করে মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার স্মৃতি টেনে এনে অভিনেত্রী বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

রানির ভাষায়, “আমি সংকেতে বিশ্বাস করি। মা হওয়ার পরই যখন এই বিশেষ পুরস্কারটি পেলাম, তখন বুঝেছি—একজন মা তার সন্তানের জন্য কতদূর যেতে পারেন। জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজেকে আরও পরিণত মনে হয়।”

৩০ বছরের এই যাত্রা তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়, বরং আত্মবিশ্বাস, পরিণতিবোধ আর শিল্পীর ভেতরের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক গভীর অভিজ্ঞতার নাম।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version