বাম পায়ের জাদুকরী ছোঁয়ায় ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাস-এ ‘মেসিনিও’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন তরুণ ফুটবলার এস্তেভাও উইলিয়ান। অল্প বয়সেই ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভবিষ্যতের অন্যতম সম্ভাবনাময় তারকা। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই চেলসি-এর হয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আভাস দিয়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক। অনেকেই আশা করেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের অন্যতম বড় ভরসা হবেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য যেন লিখে রেখেছিল অন্য গল্প। একটি দুর্ভাগ্যজনক চোট থামিয়ে দিল তাঁর স্বপ্নের পথচলা।
গত ১৮ এপ্রিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-এর বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে ডান উরুর মাংসপেশিতে গুরুতর চোট পান এস্তেভাও। শুরুতে আশাবাদী ছিলেন চিকিৎসকেরা। ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বকাপের আগেই হয়তো পুরোপুরি সেরে উঠবেন তিনি। কিন্তু পরে ব্রাজিল জাতীয় দল ও চেলসির চিকিৎসকরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁর পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো গতকাল। ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঘোষিত ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে জায়গা হয়নি এস্তেভাওয়ের। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেল তাঁর ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন।
গত গ্রীষ্মে পালমেইরাস থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে চেলসিতে যোগ দেন এস্তেভাও। এরপর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে করেছেন ৮টি গোল। মাঠে তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও বাম পায়ের অসাধারণ দক্ষতা মুগ্ধ করেছিল ফুটবলপ্রেমীদের। এমনকি কোচ আনচেলত্তিও প্রকাশ্যে তাঁর প্রশংসা করেছিলেন এবং জাতীয় দলে তাঁকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোটই হয়ে দাঁড়াল সবচেয়ে বড় বাধা।
এস্তেভাও একা নন, ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন এদের মিলিতাও এবং রদ্রিগোও। ফলে বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কাই খেল ব্রাজিল দল।
তবে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে নেইমারর জন্য। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জাতীয় দলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত করেছেন ৭৯ গোল। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে এবারই প্রথম প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জাতীয় দলকে ১১ মে’র মধ্যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হয়। পরে এই তালিকা থেকেই বাছাই করা হবে চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল।

