দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার উপজেলা পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বেশি আক্রান্ত এলাকায় আগে টিকা দেওয়া হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টিকা পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের সবধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।
তিনি বলেন, রোববার থেকে পুরো জেনারেশন কাভার হওয়া পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের হামের টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এপিআই এর অন্য টিকা কার্যক্রমও চলবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। ইতোমধ্যে কয়েক শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, টিকাদান কর্মসূচিতে পূর্বের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা সতর্ক করেছেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরও ব্যাপক আকার নিতে পারে, কারণ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সহজেই বহু মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
দেশে নিয়মিতভাবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এবং শহর এলাকায় সিটি করপোরেশনের টিকাদান কর্মী ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এছাড়া নির্দিষ্ট সময় পরপর জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ টিকাদান অভিযান পরিচালনা করা হয়, যেখানে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সর্বশেষ জাতীয় টিকাদান অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।


