লেবাননে গত মাসে ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর বুধবার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যা ১৮২ জন বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, এটি চূড়ান্ত হিসাব নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে রাজধানী বৈরুতে পরপর অন্তত পাঁচটি হামলা চালানো হয়। এতে শহরের আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এটি চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সমন্বিত হামলা। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৈরুতে, যেখানে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তারা মানারা নামের একটি ছোট কিবুতজে রকেট হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”

গত ২ মার্চ শুরু হওয়া এই সংঘাতের মধ্যে বুধবারই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিন। এর দুই দিন আগে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পূর্ণাঙ্গ বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে।

রয়টার্সের সাংবাদিকরা বৈরুতের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিধ্বস্ত ভবন থেকে উদ্ধার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছেন। সেখানে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা ক্রেন ব্যবহার করে এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন। হামলায় ভবনের অর্ধেক অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ওপরের তলার বাসিন্দারা আটকা পড়ে যান।

এদিকে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় আহতদের অনেক ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এ পরিস্থিতিকে “ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

রয়টার্সের সরাসরি সম্প্রচার অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে ধর্মঘট শুরু হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। বুধবার সন্ধ্যায় এক ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই কথা বলেন। ভ্যান্সের ভাষায়, “এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। ইরান মনে করেছিল লেবাননও যুদ্ধবিরতির অংশ, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।”

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এদিকে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র জানায়, দলটি বুধবার ভোর থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ রেখেছিল। হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আল-মুসাউই বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছিল এটি যুদ্ধবিরতির অংশ। আমরা তা মেনে চলেছি, কিন্তু ইসরায়েল বরাবরের মতোই তা লঙ্ঘন করেছে এবং লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে।”

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version