মার্কিন-মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই আবারও রক্তাক্ত হলো গাজা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, দক্ষিণ গাজায় তাদের বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে একজন ‘জঙ্গি’কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গাজার উত্তরাঞ্চলের তুফাহ এলাকায় একদল ফিলিস্তিনির ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলার পর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যায়।
পৃথক আরেক ঘটনায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের নিকটবর্তী আবু হুজাইর এলাকায় দুটি পুলিশ চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ড্রোন হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ গাজায় এক ব্যক্তিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তি একজন জঙ্গি ছিলেন এবং তিনি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রবেশ করে তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিলেন।
ইসরায়েল এই ঘটনাকে গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন-মধ্যস্থতার যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজা ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামাসের ওই হামলায় ১,২০০ জন নিহত হন। অন্যদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৭২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র: এএফপি, ফ্রান্স ২৪


