মার্কিন ডলারের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির প্রত্যাশার ফলে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়ায়। এ ছাড়া মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনুভো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা আবার আগের ধারায় ফিরে এসেছি। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে স্বর্ণের দাম বাড়ে এবং তেলের দাম বাড়লে স্বর্ণের দাম কমে। তেলের দাম কমার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও হ্রাস পেয়েছে। এটি স্বর্ণের বাজারকে চাঙা করছে।’
জ্বালানি তেলের চড়া দাম মূল্যস্ফীতি এবং উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। ফলে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ না দেয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
স্বর্ণের বাজারকে আরও বেগবান করেছে মার্কিন ডলারের দরপতন। ইয়েনকে শক্তিশালী করতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের পর ডলারের মান প্রায় দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৫৭ দশমিক ৯৩ ডলার এবং প্ল্যাটিনাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৪৬ ডলার হয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ২৭৩ দশমিক ১২ ডলারে স্থির রয়েছে।
এদিকে দেশের বাজারে এখন ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

