পশ্চিমবঙ্গের পানিহাটিতে আলোচিত আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডে নিহত চিকিৎসক ডা. মৌমিতা দেবনাথের মা রত্না দেবনাথ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

ফল ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রত্না দেবনাথ। চোখের পানি সামলে তিনি বলেন, ‘এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয়। বাংলার নির্যাতিত নারীদের পক্ষেই মানুষ রায় দিয়েছে।’

পানিহাটির গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্টে যখন চলছিল কামারহাটি, খড়দহ, পানিহাটি, বারানগর, দমদম এবং দমদম উত্তরের ভোটগণনা, তখন এই কেন্দ্রের দীর্ঘ করিডোরে বসে জয়ের সুবাস পাচ্ছিলেন রত্না দেবনাথ।

রাজনীতির সঙ্গে পূর্বে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরিস্থিতিই তাকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসে বলে জানান রত্না দেবনাথ। তিনি জানান নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানেই নির্বাচনে অংশ নেন। তার ভাষায়, প্রথমবার কোনও প্রধানমন্ত্রী পানিহাটিতে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন। সেটি ছিল আমার মেয়ের জন্য।

ভোট গণনার সময় অন্যান্য প্রার্থীরা যখন ফলাফলের ওঠানামা নিয়ে ব্যস্ত, তখন রত্না ছিলেন দৃঢ় ও সংযত। তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনো উচ্ছ্বাস দেখাননি বরং ফল ঘোষণার পরই তার প্রতিক্রিয়া আসে।

জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি বলেন, এই রায় পানিহাটির মানুষকে ঘোষ পরিবারের হুমকির সংস্কৃতি থেকে মুক্তি দেবে। সারা দেশ আমার এই লড়াই দেখছে। যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি আশা করি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।

পানিরহাটির প্রতিনিধি হিসেবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে রত্না দেবনাথ বলেন, আমি কর্মীদের হিংসায় জড়াতে বারণ করব। আমার লক্ষ্য সবার জন্য ন্যায়বিচার। আমি রাজনীতিবিদ হয়ে থাকতে চাই না, আমি মায়ের মতো প্রতিবাদী হয়েই থাকতে চাই।

নিজের ডান হাতের কবজিতে থাকা জগন্নাথ মন্দিরের লাল-হলুদ সুতোর দিকে তাকিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমার হারানোর কিছু নেই। এই রায় বাংলার প্রতিটি মেয়ের জন্য আমার লড়াইয়ে নতুন অক্সিজেন জোগাবে।

এই বিজয়কে তিনি শুধু ব্যক্তিগত নয় বরং রাজ্যের নারীদের জন্য প্রতীকী লড়াইয়ের সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য গত ২৪ এপ্রিল পানিহাটিতে জনসভায় মোদী মঞ্চে ডা. মৌমিতা দেবনাথের মা রত্না দেবনাথের হাত ধরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এ নিয়ে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ক্ষমতা যে কষ্টের সামনে নত হয়, তা খুবই বিরল দৃশ্য।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version