মাইকেল ওলিসেকে ধরে রাখতে বড় অঙ্কের বেতনের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ। ফরাসি ফরোয়ার্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতির পর আলোচনায় বসবে জার্মান ক্লাবটি। তবে বায়ার্নের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার আগে একটি শর্ত রেখেছেন ওলিসে—নতুন চুক্তিতে থাকতে হবে রিলিজ ক্লজ।
ওলিসের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। সেটি ২০৩২ সাল পর্যন্ত বাড়াতে চায় বায়ার্ন। এ জন্য তার বার্ষিক বেতন ১৪ মিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ২৫ মিলিয়ন ইউরো করার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির। নতুন বেতন আগামী গ্রীষ্ম থেকে কার্যকর করার প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে।
তবে বেতন বাড়ানোর এই প্রস্তাবই ওলিসেকে ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। তার প্রতিনিধিদের মূল দাবি, নতুন চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের রিলিজ ক্লজ রাখতে হবে। বর্তমান চুক্তিতে এমন কোনো শর্ত নেই।
রিলিজ ক্লজের অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে জার্মান সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অঙ্কও এতে থাকতে পারে। আর এই শর্তই ওলিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও লিভারপুলের আগ্রহকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ওলিসের জন্য রিলিজ ক্লজ অবশ্য নতুন কিছু নয়। ক্রিস্টাল প্যালেসে থাকার সময় তার চুক্তিতেও এমন শর্ত ছিল। ২০২৪ সালে সেই ক্লজ কাজে লাগিয়েই ৫৩ মিলিয়ন ইউরোতে তাকে নিয়ে আসে বায়ার্ন। এবার নতুন চুক্তিতেও একই ধরনের নিশ্চয়তা চান ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
বায়ার্ন অবশ্য দ্রুত বিষয়টির সমাধান করতে চায়। স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবের্ল জানিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই ওলিসে চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে চায় ক্লাব।
মাঠের পারফরম্যান্সও বায়ার্নের এই আগ্রহের বড় কারণ। চলতি মৌসুমের শুরুতে সাত ম্যাচেই ওলিসে করেছেন ৮ গোল, সঙ্গে ৪টি অ্যাসিস্ট। দুর্দান্ত এই শুরুর পর তার বাজারমূল্য ১৭০ মিলিয়ন ইউরো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ওলিসের নাম অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই জড়াচ্ছে। লিভারপুলও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের বিষয় সামনে আসেনি। বরং বায়ার্নের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে ওলিসের অবস্থান কী হয়, সেটিই আপাতত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।



