ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বৈশ্বিক উন্মাদনা, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। কিন্তু টিকিটের আকাশছোঁয়া দামের কারণে অনেক ভক্তই সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন। এমন বাস্তবতায় সুখবর নিয়ে এসেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি—শহরের পাঁচটি বরোতে আয়োজন করা হচ্ছে বিনামূল্যের বিশাল ফ্যান জোন, যেখানে সবাই একসঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ।
সোমবার নিউইয়র্ক-এ ক্যাথি হোচুল-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ ঘোষণা দেন তিনি। মেয়র মামদানি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট উপভোগ করার সুযোগ যেন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বরোতে থাকবে আলাদা ফ্যান জোন। সেখানে বড় পর্দায় সরাসরি ম্যাচ দেখানোর পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় খাবারের স্টল, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং নানা অংশগ্রহণমূলক আয়োজন। ফলে খেলা দেখা শুধু ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রূপ নেবে এক পূর্ণাঙ্গ উৎসবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো—এই ফ্যান জোনগুলোতে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড স্টেডিয়াম- এ আয়োজিত একটি বিশেষ ফ্যান ইভেন্টে প্রবেশমূল্য রাখা হয়েছে ১০ ডলার।
উল্লেখ্য, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, এমনকি ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে মেটলাইফ-এ। ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া গ্রুপ পর্বে অংশ নেবে ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ড-এর মতো শক্তিশালী দলগুলো।
তবে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, বিশেষ করে যাতায়াত খরচের কারণে। সাধারণ সময়ে প্রায় ১৩ ডলারের ট্রেন ভাড়া ম্যাচের দিন বেড়ে প্রায় ১৫০ ডলার (আসা-যাওয়া মিলিয়ে) হতে পারে। এছাড়া পার্কিং সুবিধাও সীমিত, ফলে অধিকাংশ দর্শককে নির্ভর করতে হবে গণপরিবহনের ওপর।
এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীকে বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না করতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নির্ধারিত ফ্যান জোনগুলো হলো—
ম্যানহাটন: রকফেলার সেন্টার
কুইন্স: বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার
ব্রুকলিন: ব্রুকলিন ব্রিজ পার্ক
ব্রঙ্কস: ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম সংলগ্ন শপিং এলাকা
স্ট্যাটেন আইল্যান্ড: একটি মাইনর লিগ বেসবল স্টেডিয়াম
সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ শুধু খেলা দেখার সুযোগই নয়—বরং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তৈরি করছে এক বিশাল মিলনমেলা, যেখানে বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠবে সবার জন্য সমানভাবে উপভোগ্য।


