সীমান্ত এলাকায় বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে আফগানিস্তানের ভেতরে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক সূত্রের দাবি, এই অভিযানে ৮০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার জবাব হিসেবেই এই বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইসলামাবাদের দাবি, আফগানিস্তানভিত্তিক একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ-এর খবরে বলা হয়েছে, রোববার ভোরের দিকে নানগরহার, পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশে একযোগে বিমান হামলা চালানো হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত গোষ্ঠীর ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া ইসলামাবাদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত সাতটি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–১ ও ২, ইসলাম সেন্টার ও ইব্রাহিম সেন্টার; খোস্তের মোলভি আব্বাস সেন্টার; এবং পাকতিকার মোল্লা রাহবার সেন্টার ও মুখলিস ইয়ার সেন্টার।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছিল। অভিযানের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় আফগান কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।


