শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, “২০০৬ সালে আমরা ‘নকল’ শব্দটির কবর দিয়ে এসেছি। এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। এখন নকল ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। সেটাকে সেভাবেই প্রতিহত করতে হবে। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে ডিজিটাল ভিজিল্যান্স।’
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। এতে চট্টগ্রাম বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রায় ৩০ হাজার মামলাজটের কারণে সারা দেশে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০১৭ সালের এক আইনি জটিলতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া থমকে আছে। তবে আগামী ২ জুলাই আপিল বিভাগে এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। তার প্রত্যাশা, ওই দিন কাঙ্ক্ষিত রায় পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই শূন্য পদগুলো পূরণের জট খুলবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার জায়গায় জায়গায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের গুপ্ত অনুসারীরা রয়েছে, যারা আমাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগী হতে চাইছে না। জুলাই আন্দোলনে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে প্রশাসনে কোনো ধরনের দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না। এমপিওভুক্তির বিশাল ব্যাকলগ পূরণে বর্তমানে দেশে আরও ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতের বাজেট প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বাজেটকে শিক্ষা খাতে ঢুকিয়ে একটি ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার বর্তমান সরকার শিক্ষায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও বাস্তবসম্মত বাজেট দিয়েছে এবং এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁস দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই চক্রকে ভাঙতে এবং পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে আমি নিজে বিজি প্রেসে (বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেস) গিয়ে পাহারা দিয়েছি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশিত হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সব বোর্ডের খাতা আমরা রেন্ডমলি চেক করে দেখবো, কেউ কম বা বেশি নাম্বার দিয়ে দিলো কিনা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বাংলাদেশে একটি উন্নতর শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে যেতে কাজ করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকার নানা পলিসি সেট করছে। সরকারের পলিসি যারা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন তারা আমাদের অত্যন্ত সম্মাননীয় শিক্ষক মন্ডলী। আপনারা যদি আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে আপনারা শুধু নিজেদেরকে বঞ্চিত করছেন না, আগামীর প্রজন্ম যারা বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে তাদেরকে একটি বন্ধ্যাত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, একটি আত্মনির্ভর, সমৃদ্ধিশালী এবং প্রগতিশীল বাংলাদেশ যদি আমরা বিনির্মাণ করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের আগামী প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত না তার পাশাপাশি আমাদেরকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই শিক্ষাটা শুরু হবে কিন্তু একদম প্রাইমারি লেভেল থেকে। সেজন্য প্রাইমারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে যারা দেখাশোনা করছি তাদেরকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।

