পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামের ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন সেনাসদস্য, ২ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২২ জন হামলাকারী রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ ও উপর্যুপরি গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো বিমানবন্দর এলাকা। ডিওরি হামানি নাইজারের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কৌশলগত কারণে এর ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। মূলত সেই ঘাঁটি ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
হামলার পর বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী এক বাসিন্দা জানান, ‘আমরা নামাজ শেষ করে কেবল ঘরে ফিরেছিলাম। কিছুক্ষণ পরই একটি বিশালাকার বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। তার পরপরই শুরু হয় গোলাগুলি। তখনই বুঝতে পারি সেখানে বড় ধরনের কোনো হামলা হয়েছে।’
এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষ কট্টরপন্থী সংগঠন ‘জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’। সংগঠনটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে এই রক্তক্ষয়ী হামলার পেছনে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, ভোরের দিকে হামলা শুরু হলেও সকাল নাগাদ পুরো পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী। বর্তমানে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত থাকার পর যারা এখনো পলাতক রয়েছে, তাদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নাইজার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উগ্রপন্থী ও জঙ্গি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই একই বিমানবন্দরে একটি বড় ধরনের হামলা হয়েছিল, যার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সংশ্লিষ্ট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।


