সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দুর্নীতির জন্য কাউকে ক্ষমা করা হবে না এবং বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে।

শনিবার নগরীর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় মিলনায়তনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কেউ যাতে দুর্নীতিতে জড়িত না থাকে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারণ দিনশেষে জনপ্রতিনিধি এবং সরকারকে জনগণ ও সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবার একটি ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

তিনি বলেন, ‘এজন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন ও তথ্য সংগ্রহের পর আগামী ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রংপুর নগরীসহ সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু করা হবে।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিটি সেবা কর্মসূচিতে এখন আর কোনো নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, ‘টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে। সুবিধাভোগীরাও সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পাচ্ছেন। এতে কোনো মধ্যস্থতাকারী না থাকায় সুবিধাভোগীরা স্বস্তিতে আছেন।’

প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ছয় শতাংশ প্রতিবন্ধী। দেশে প্রায় ৪৫ লাখ নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা করা এবং তাদেরকে জনসম্পদে পরিণত করার কাজ চলছে। সারাদেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন এলাকায় পঁয়তাল্লিশটি মোবাইল থেরাপি ইউনিট কাজ করছে। ভবিষ্যতে এর কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য মোট ২ হাজার ৬০০টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ৮৫টি নিবন্ধিত এবং ৭৫টি এমপিও-তালিকাভুক্ত।

তিনি বলেন, ‘আমরা শিগগিরই দেশের প্রতিটি জেলায় একটি মানসম্মত প্রতিবন্ধী স্কুল এবং প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি।’

সামাজিক সুরক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করছে।

মন্ত্রণালয় সেলাই, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, পোল্ট্রি খামার, প্লাম্বিং এবং মোবাইল মেরামতসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

প্রশিক্ষণের পর কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের সুদবিহীন ঋণ প্রদান করছে।

তিনি বলেন, ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সমাজসেবা বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রত্যেক ব্যক্তিকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে।’

সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জেলা বিএনপি সদস্য লিটন পারভেজ এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version