প্রথম দফায় রেকর্ড পরিমাণ ভোটদান। এই বিপুল পরিমাণ ভোটদান দেখে বিজেপির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার নিউটাউনের সাংবাদিক বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি-র বাংলায় জয় নিশ্চিত বলে দাবি করলেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, সারারাত হিসাব কষে যে ফল তিনি দেখেছেন, তাতে বাংলা এ বার গেরুয়া রঙে রঙিন হতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, জেতার পরে বিজেপির সরকার কী কী করতে চলেছেন সেই প্রতিশ্রুতি আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন শাহ। প্রথম দফার ভোট শেষে পুলিশ, প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বিশেষ কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।
এ দিন নিউটাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠকে শাহী বার্তায় বিজেপির জয়ের আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন মিলল। তিনি বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরাই সরকার গড়তে চলেছি। সারা রাত ধরে প্রথম দফার ভোটের বিশ্লেষণ করেছি। ১৫২-র মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। দিদির বিদায় নিশ্চিত।’ শাহের এই আত্মবিশ্বাসী হিসাব শুনে কটাক্ষ তৃণমূল শিবিরের। জোড়াফুল শিবিরের পাল্টা দাবি অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাজ্যের বর্তমান শাসকদল পেতে চলেছে ১৩০-এরও বেশি আসন।
এখানেই শেষ নয়, শাহের দাবি, প্রথম দফার ভোটেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে ফেলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলায় সরকার গড়তে চান জনতা বলে জানান শাহ। বিজেপির ১১০ জয়ের পিছনের সমীকরণ বোঝাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘আগে কখনও ভোট এতটা ভয়মুক্ত হয়নি। আমাদের অনেক কর্মী ভয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে ভোট দিতে যেত। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বাংলায় এখন প্রবল। অনেকদিন পর বাড়ির মহিলারা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। তাঁরা সকলে দুর্নীতি, জঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি চান। তাই ভোটদানের হার এত বেশি। এসব পর্যালোচনা করেই আমরা সংখ্যাটা বুঝতে পেরেছি।’
প্রথম দফায় ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোটের হারের প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, ‘এই মতদানের হার থেকেই স্পষ্ট, তৃণমূল যাচ্ছে, বিজেপি আসছে। ৫ তারিখ থেকে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ শাসন করবে বিজেপি।’ একইসঙ্গে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী যে বাঙালি কেউই হবেন তাও জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মাটিতে জন্মেছে, বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন এমন এক নেতাকে বানানো হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
শাহের মুখে আবার উঠে আসে মহিলা সুরক্ষার কথা। বিজেপি সরকারে এলে জোর দেওয়া হবে বাংলার নারীদের সুরক্ষায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েরা কেন বাইরে বেরোচ্ছেন? তাঁর শাসন করার অধিকার নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন।’ বাংলার ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে দ্বিতীয় দফাতেও বিজেপিতেই আস্থা রেখে সরকার গঠনে নিজের ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিলেন তিনি।
সূত্র: এই সময়


