প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, জুলাই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ দেড় দশকের লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিক ফলাফল।

তিনি আজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অনেকে জুলাই নিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, জুলাই ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ফুটবল ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করলেই কেউ সেরা খেলোয়াড় হয়ে যায় না; যারা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে লড়াই করেছে, তাদের অবদানই সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা রাজপথে জীবন দিয়েছে, লড়াই করেছে, তারা কোনো ‘কিংস পার্টি’ গঠনের জন্য রক্ত দেয়নি।’ আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী নেতাকর্মীদের অবদান স্মরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের আট দফা কর্মসূচি তিনি নিজেই প্রণয়ন করেছিলেন এবং সে সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি সালাউদ্দিন আহমেদ, জহির উদ্দিন স্বপন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর সঙ্গে আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান প্রবাসে অবস্থান করেও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। ২০২২ সালে ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তারেক রহমানের ভিশন ও মিশন মন্ত্রিসভায় কাজ করতে গিয়ে উপলব্ধি করা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অকারণে বিরোধিতা বা তর্কের খাতিরে তর্ক না করে গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যের সঙ্গে মিথ্যার মিশ্রণ ঘটাবেন না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করবেন না।’

তিনি বিএনপিকে সংস্কার বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করাকে অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আগামী পাঁচ বছর সরকারকে গঠনমূলক সমালোচনা ও ইতিবাচক পরামর্শের মাধ্যমে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং সত্যভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version