ভারতীয় বিনোদন জগতে এমন কিছু মুখ আছে, যাদের উপস্থিতিই দর্শকের আনন্দের নিশ্চয়তা। অর্চনা পুরান সিং ঠিক তেমনই এক পরিচিত নাম—হাসির ঝরনা ছুটিয়ে যিনি দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। তবে কেবল কমেডি শোর হাসির বিচারক হিসেবেই নয়, অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
ভারতের জনপ্রিয় কমেডি শো দ্য কপিল শর্মা শো-তে বিচারকের আসনে বসে তার প্রাণখোলা অট্টহাসি যেন শোয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া তার নতুন চলচ্চিত্র টোস্টার-এর প্রচারণায় এসে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে—বিশেষ করে কেন দীর্ঘ সময় তাকে বড় পর্দায় কম দেখা গেছে।
অনেকের ধারণা, কপিল শর্মার শো-তেই ব্যস্ততা তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি একদম উড়িয়ে দেননি অর্চনা। তিনি জানান, শো চলাকালীন বছরে প্রায় ১০০টি পর্বের শুটিং করতে হতো। এমনই এক সময়ে স্কটল্যান্ডে টানা ২৫ দিনের একটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শোর শুটিংয়ের চাপের কারণে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন।
অর্চনার ভাষ্য, এমন ঘটনা একবার নয়, বারবার ঘটেছে। ফলে ধীরে ধীরে নির্মাতারা ধরে নিতে শুরু করেন—তিনি আর সিনেমায় আগ্রহী নন। এর পরিণতিতে এক সময় তার কাছে নতুন প্রস্তাব আসাই বন্ধ হয়ে যায়।
তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। শোটি নেটফ্লিক্সে আসার পর সিজনভিত্তিক শুটিং হওয়ায় হাতে সময় পাচ্ছেন তিনি। এতে দেশের বাইরে বা বড় প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
তবুও একটা আক্ষেপ রয়েই গেছে তার মনে। অর্চনা বলেন, “আমি যতই চেষ্টা করি না কেন, নির্মাতাদের বোঝাতে পারছি না। কেউ আমাকে কাজের অফার দিচ্ছে না। তারা বিশ্বাসই করতে চায় না যে আমি একজন অভিনেত্রী; তারা মনে করে আমি কেবল ওই চেয়ারে বসে হাসাহাসি করা একজন মানুষ।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে জলওয়া ছবিতে নাসিরুদ্দিন শাহ-এর বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন অর্চনা। এরপর কুচ কুচ হোতা হ্যায়, দে দানা দান এবং বোল বচ্চন-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে ও কমেডি রোলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে দ্য কপিল শর্মা শো-তে যুক্ত হওয়ার পর থেকে টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে তার পরিচিতি আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অভিনেত্রীর সংগ্রাম আর প্রত্যাবর্তনের গল্পই যেন অর্চনা পুরান সিংয়ের বর্তমান অধ্যায়।


