প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সামনে আনার পর ইইউতে ব্রিটনের ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বার্নহাম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য বিভিন্ন সম্পর্কের ‘সুবিধা ও অসুবিধা’ বিবেচনার পর তার মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ‘পুরো পথ’ এগিয়ে ইইউতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিভাজনমূলক ব্রেক্সিট বিতর্কটি আবার সামনে আনেন।

বার্নহামের মন্তব্যের তাৎক্ষণিক সমালোচনা করেছে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার বিতর্কিত গণভোটের পর ব্রিটিশ রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী তীব্র ‘ব্রেক্সিট যুদ্ধ’ আবার শুরু হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য-এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জুলাইয়ে লেবার এমপিরা কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বার্নহাম সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২০ সালে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ ‘লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে’।

তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের কারণে ‘এক দশক ধরে প্রবৃদ্ধি কমেছে’ এবং ব্রিটেনকে তার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে ‘দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক’ নির্ধারণ করতে হবে।

চলতি বছরের শেষ দিকে ২৭ সদস্যের ইইউ’র সঙ্গে পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলনের কাছাকাছি সময়ে বার্নহাম ‘বিভিন্ন বিকল্প’ তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুধবার বিবিসি রেডিও’কে বার্নহাম বলেন, বিবেচনা করা যেতে পারে ইউরোপীয় সিঙ্গেল মার্কেট ও কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার বিষয়টি, ‘অথবা আমরা পুরো পথ এগিয়ে যেতে পারি’।

তিনি বলেন, ‘সুতরাং স্পষ্টতই এমন কিছু বিকল্প রয়েছে, যেগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য, আর প্রতিটির কী সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে, তা আমাদের দেখতে হবে।’

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মাখোঁ এই ধারণাকে স্বাগত জানান।

মাখোঁ বলেন, ‘ব্রিটিশরা যদি ফিরে আসতে চায় এবং প্রধানমন্ত্রী যদি সেই পথে এগিয়ে যান, তাহলে আমি মনে করি এটি তাঁর দেশের জন্য এবং ইউরোপীয়দের জন্য উভয়েরই খুব ভালো খবর।’ এরপর তিনি বলেন, ‘ফিরে আসুন।’

সানচেজও মাখোঁর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, যুক্তরাজ্য যদি পুনরায় যোগ দেওয়ার আবেদন করে, ‘তাহলে অবশ্যই স্পেন তা স্বাগত জানাবে এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের জন্য আবারও দু’হাত বাড়িয়ে দেবে।’

এদিকে, ব্রিটেনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়ার দায়িত্ব লন্ডনের।

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র বালাজ উজভারিই বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে চায়, তা তুলে ধরার দায়িত্ব যুক্তরাজ্য সরকারের।’

তিনি বলেন, ‘তারা যেসব বিকল্প প্রস্তাব দেবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’

সূত্র: এএফপি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version