এনবিআর ডেস্ক :
কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও এ বছর মাত্র সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অথচ দেশে মোট শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। প্রায় ৭৮ লাখ টিআইএনধারীর আয়কর রিটার্ন দেননি।
নির্দিষ্ট অর্থবছরে বার্ষিক আয়–ব্যয়ের তথ্য সরকারকে জানাতে রিটার্ন জমা দিতে হয়। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রিটার্ন দেননি। একাধিক দফা সময় বাড়ানোর পর গত ৩১ মার্চ রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে আয়কর রিটার্ন না দিলে কি হবে? কি ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়? আয়কর আইন 2023 অনুসারে, রিটার্ন না দিলে পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। যেসব ঝামেলায় পড়তে হয়-
জরিমানা
আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে শর্ত সাপেক্ষে জরিমানা আরোপ করা যাবে। করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্য করা করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হয়, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। জরিমানার সময়সীমা অতিক্রমের পরেও তা পরিশোধ না হলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়।
কর ছাড় নেই
আয়কর রিটার্ন না দিলে কর অব্যাহতির সুযোগ কমে আসবে। আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর অবকাশের মতো সুযোগগুলো কম ভোগ করা যাবে। যেমন, আপনি প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না।
বসবে বাড়তি কর
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা
সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেতন–ভাতার একটি নির্ধারিত সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন–ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের।


