আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত এবং পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) গভীর রাতে হওয়া এই হামলাটি গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং রক্তক্ষয়ী ঘটনা, যা দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে আবারও অশান্ত করে তুলেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে ‘মানবিক অপরাধ এবং আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তালেবান প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে— খোস্ত প্রদেশের স্পেরা জেলার একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন।
পাক্তিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় একটি পৃথক বিমান হামলায় ৩ জন বেসামরিক শিশু নিহত হয়।
এই হামলা নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে এর আগে আফগানিস্তানে চালানো হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, তারা পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালায়।
ধারণা করা হচ্ছে, এই বিমান হামলাটি আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হাসান খেল এলাকায় টিটিপি-র সাম্প্রতিক একটি হামলার প্রতিক্রিয়া। সেখানে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে টিটিপি-র বন্দুকযুদ্ধে পাকিস্তানের ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির ৬ সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের মাটিতে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তান জুড়ে বিভিন্ন প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে।
আফগানিস্তানের দাবি, তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে এবং শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে তা ভেস্তে যায়।
জাতিসংঘের মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই আন্তঃসীমান্ত লড়াইয়ের কারণে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।

